আমার প্রিয় ওবায়েদ ভাইয়ের বিদায়
- AbuSayed Mahfuz
- Aug 16, 2025
- 3 min read
আমাদের ওবায়েদ ভাই, ডঃ আবু জাফর মোহাম্মদ ওবায়েদ উল্লাহ, বা আ.জ.ম ওবায়েদ উল্লাহ এই তিন নামেই পরিচিত। ওবায়েদ ভাইয়ের সাথে আমার পরিচয় প্রায় চার দশকের। ১৯৮৫-৮৬ সালে প্রথম পরিচয়। তিনি সম্ভবত সে সময় ফুলকুঁিড়র পরিচালক ছিলেন। আমি ছিলাম অজানা অচেনা গ্রাম থেকে উঠে আসা এক তরুন। আমার হিসাব নিকাসে এবং মাসুম খলিলী ভাইয়ের সাম্প্রতিক এক লেখায় ওবায়েদ ভাইয়ের একাডেমিক পরিচয় অনুযায়ী ওবায়েদ ভাই আমার তিন বছরের সিনিয়র। অপর দিকে তিনি ছিলেন আমার নেতা, দায়িত্বশীল, মেন্টর এবং একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু।
ওবায়েদ ভাই যে কত প্রিয় ছিলেন, ওবায়েদ ভাইয়ের বিদায়ে কত ভাইয়ের হৃদয় ভেঙে গেছে তা ওবায়েদ ভাইয়ের বিদায়ের পরই কিছুটা বুঝা গেল।
ওবায়েদ ভাইয়ের চির বিদায়ে তাঁর ঘনিষ্ঠ বা একান্ত কিছু আপন জনের পরেই যাদের হৃদয়ে আঘাত হেনেছে তাদের মধ্যে আমি একজন। ওবায়েদ ভাইয়ের সাথে আমার সম্পর্ক ছিল ত্রৈমাত্রিক বা বহুমাত্রিক।
ওবায়েদ ভাইয়ের সাথে আমাদের প্রথম পরিচয় হয় লেখালেখি এবং সাহিত্য সংস্কৃতিক কার্যক্রমের মাধ্যমে। ঢাকার বেশ কিছু সাহিত্য সংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সভায় আমি যোগদান করেছিলাম যার অনেকগুলোতে ওবায়েদ ভাইও আসতেন। কিছু কিছু প্রোগামে ওবায়েদ ভাই ছিলেন আয়োজক বা সংগঠক। সে সময় ওবায়েদ ভাই যে সব পত্র পত্রিকা ম্যাগাজিনে কাজ করতেন, মাসিক ডাইজেষ্ট, ঢাকা ডাইজেষ্ট, পালাবদল, কিশোর কন্ঠ ইত্যাদি। ওবায়েদ ভাই লিখতেন বা সম্পাদনা করতেন সে সব প্রকাশনায় আমি প্রথমে চিঠিপত্র কলামে বা প্রবন্ধ নিবন্ধ লিখতাম। ঢাকা ডাইজেষ্টে প্রশ্নোত্তরের একটা বিভাগ ছিল যেটা ছিল খুব জীবন্ত এবং মুখরোচক। আমার যতটুকু মনে পড়ে ওবায়েদ তাঁর গ্রুপ সহ এগুলোর উত্তর দিতেন। গ্রুপের মধ্যে ছিল মরহুম শফিউল আলম রতন, মাসুম খলিলী, আবু হেনা আবিদ জাফর, বুলবুল সরোয়ার, চেীধুরী গোলাম মাওলা, মিলন ইসলাম প্রমূখ।
সম্ভবত ১৯৮৭/৮৮ সালে ঢাকায় উপরোক্ত ব্যাক্তিদের নেতৃত্বে এবং তত্বাবধানে ঢাকায় একটা নাটক মঞ্চস্থ হয়, আমিও সে নাটকে ছোট্র একটি অংশে অভিনয় করার সুযোগ পাই। ঐ নাটকে আমার যদদুর মনে পড়ে প্রধান ভুমিকায় ছিলেন চেীধুরী গোলাম মাওলা, সালমান আজমী এবং সাইফুল্লাহ মানসুর প্রমূখ। শিবলী সোহায়েল তখন ইন্টারমেডিয়েটে পড়তো তারও একটা বড় ভুমিকা ছিল। ওবায়েদ ভাই সম্ভবত সার্বিক তত্বাবধানে ছিলেন। নাটকটির মধ্যে একটি গানের একটি কলি ছিল, ”এইখানে ছিল নদী”।
এই নাটকের সমসাময়িক সময়ে বাছাইকরা সাংস্কৃতিক সম্ভাবনায় তরুন কিশোর যুবকদেরকে নিয়ে ২/৩ দিন ব্যাপী একটি জাতীয় সংস্কৃতিক প্রশিক্ষন শিবির অনুষ্ঠিত হয়েছিল ঢাকায়, আমি সে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহন করেছিলাম, যেখানে ওবায়েদ ভাই ছিলেন মুল পরিচালক, সাইফুল্লাহ মানসুর ছিলেন ওবায়েদ ভাইয়ের সহকারি।
ওবায়েদ ভাইয়ের সাথে আমার দ্বিতীয় সম্পর্ক ছিল সাংগঠনিক। আমার দায়িত্বশীল এবং নেতা। ওবায়েদ ভাই যখন সেক্রেটারী জেনারেল এবং তারপর কেন্দ্রীয় সভাপতি এই পুরো সময় আমি প্রথমে ইসলামী বিদ্যালয়ের প্রথম সদস্য শাখার সদস্য তারপর কেন্দ্রীয় প্রচার, প্রকাশন এবং অফিস সহকারি এবং সর্বশেষ মাদ্রাসা ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় আহবায়কের দায়িত্ব পালন করি। পুরো সময়টাই ছিল মুকুল ভাই, ওবায়েদ ভাই এবং হামিদ হোসাইন আজাদ ভাইয়ের নেতৃত্বে।
ওবায়েদ ভাইয়ের সাথে আমার আরেকটি সম্পর্ক ছিল, সেটা হলো ওবায়েদ ভাই পি এইচ ডি করেছেন আমার আরেক ঘনিষ্ঠ বন্ধু প্রফেসর আহসান উল্লাহ ফয়সালের তত্বাবধানে। আহসান উল্লাহ ফয়সাল ও গত ২০২০ কভিডে আমাদেরকে ছেড়ে চলে যায়। আহসান উল্লাহ ফয়সাল আমার ছেলেবেলার বন্ধু। মাদ্রাসায় পড়াকালীন দাখিল থেকে পরিচয় এবং বন্ধু, আহসানের গ্রামের বাড়ী আর আমার গ্রামের বাড়ী ৫-৬ মাইলের ব্যবধানে। আমি তার গ্রামের বাড়ীতে গিয়েছি, সেও আমার বাড়ীতে এসেছিল। আহসানের সাথে ফোনে ঘন্টার পর ঘন্টা কথা হতো। ওবায়েদ ভাই পি এইচ ডি করার সময়েও অনেক কথা হতো, সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে, এবং দু একবার ওবায়েদ ভাই সম্পর্কেও কথা এসেছিল। বয়সে ওবায়েদ ভাই আমাদের দুজনারই বড়। আহসান উল্লাহ ফয়সাল ওবায়েদ ভাইয়ের নাম নেয়ার সময় ’ওবায়েদ’ বলতো। আমার কাছে তখন কেমন যেন সংকোচ লাগতো। আহসানের দৃষ্টিতে ওবায়েদ ভাই তার ছাত্র আর আমার দৃষ্টিতে ওবায়েদ ভাই ছিলেন আমার নেতা, মুরুব্বী।
ওবায়েদ ভাইয়ের ঘুমের ব্যাপারে কেউ কেউ কথা বলেছেন, কিছুদিন আগে মাসুম খলিলী লিখেছেন ওবায়েদ ভাইয়ের ঘুমানো ঝিমানোর কথা। তিনি এত বেশী কাজ করতেন যে, ঘুমানোর তেমন সময় পেতেন না, তাই সময় পেলেই একটু ঝিমিয়ে নিতেন। ১৯৮৬/৮৭ সালের যে সংস্কৃতিক প্রশিক্ষণশালার কথা বলেছিলাম, সে সময় ওবায়েদ ভাইর একটি কথা মনে পড়ে গেল। প্রশিক্ষনে সারাদেশ থেকে প্রতিনিধি এসেছেন। অনেকেই রাতে ট্রেনে বাসে লঞ্চে এসে সকালে প্রোগ্রামে অংশ নিয়েছিলেন। স্বাভাবিকভাবে প্রোগ্রামে কারো কারো ঝিমানো বা ঘুম আসতে পারে, তাই ১০টা বা ১১টার দিকে একটা সংক্ষিপ্ত বিরতির সময় ওবায়েদ ভাই বললেন, সংক্ষিপ্ত বিরতির সময় বললেন যারা রাতে জার্নি করে এসেছেন তারা চেয়ারে বসে একটু ঝিমিয়ে নিতে পারেন, কাজে আসবে। সে সময় থেকে গত ৩০-৪০ বছরে একটা বিষয় লক্ষ্য করেছি ওবায়েদ ভাই, মানুষের মন বুঝতেন, মানুষকে বুঝতেন এমনকি আমি দেখেছি আপনার মাথায় কি ঘুরছে অনেক সময় সেটাও বুঝতে পারতেন। অনেকবার দেখেছি আপনি ওবায়েদ ভাইকে কোন কথা বলতে গেলে অর্ধেক বলার পর, তিনি আপনাকে থামিয়ে দিয়ে বলতেন, ওকে, বুঝেছি আপনি এই বলতে চান তো? তখন দেখতাম এক্সাক্টলি আমি যা চিন্তা করেছি তিনি তাই বলছেন।
ওবায়েদ ভাইয়ের সাথে কথা বলে কেউ কখনো বিরক্তি বোধ করতো না। কলাবাগানের ৮৬ বশিরুদ্দিন রোডের মেসে, এবং ৪৮/১ পুরানা পন্টনের অফিসে, প্রায় ৩-৪ বছর ওবায়েদ ভাইয়ের খুব কাছাকাছি থাকার সুযোগ হয়েছে, কখনো ওবায়েদ ভাইকে বিরক্ত হতে বা মেজাজ খারাপ করতে দেখিনি। তিনি অতি কঠিন এবং কঠোর কথাকেও সহজে বলতে বা উপস্থাপন করতে পারতেন ওবায়েদ ভাই ওবায়েদ ভাইয়ের কথার মধ্যে যথেষ্ট রসবোধ ছিল, রস করেও তিনি কঠিন কথা বলতে পারতেন। সাহিত্য সংস্কৃতির বাইরে ওবায়েদ ভাই ইসলামী ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী জেনারেল এবং পরে সভাপতি হয়েছিলেন তাই স্বভাবতই অনেক কঠিন কথা ওবায়েদ ভাইকে বলতে হয়েছে, সে কঠিন কথাগুলো ওবায়েদ ভাই কিভাবে অতি সহজ আন্তরিকতা এবং ভালবাসা দিয়ে বলতে পারতেন তার অনেক উদাহরণ আমি দেখেছি। আমার অভিজ্ঞতায় ওবায়েদ ভাইয়ের কঠিন কথা সাবলিলভাবে বলার ব্যাপারে আমার কিছু অভিজ্ঞতা শেয়ার করা প্রয়োজন মনে করছি।
১৯৮৮ সালের কথা, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় তখন ঢাকার অদূরে গাজীপুরের বোর্ড বাজারে। আমি প্রথম ব্যাচের ছাত্র ছিলাম, আমরা তিন ব্যচ যখন চলছিল। যখন হঠাৎ ঘোষনা আসে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় স্থানান্তরের। শুরু হয় তুমুল আন্দোলন, এটা ছিল একটা কঠিন সময়। ওবায়েদ ভাই সে সময় শিবিরের সেক্রেটারী জেনারেল, ডঃ আমিনুল ইসলাম মুকুল ভাই ছিলেন শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যচের ছাত্র হিসেবে, এই আন্দোলনের প্রতক্ষ সাক্ষী হিসেবে অনেক কিছুতেই আমাকে জড়িত হতে হয়েছে।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় যখন চুড়ান্তভাবে স্থানান্তরিত হয়ে যায়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তখন মুকুল ভাই এবং ওবায়েদ ভাইয়ের নির্দেশে আমাকে ঢাকায় ৮৬ বশিরুদ্দিন রোডে কলাবাগান মেসে চলে আসতে হয়। সে সময় মুকুল ভাই ওবায়েদ ভাই দুজনই কলাবাগান মেসে ছিলেন। শামসুল ইসলাম ভাই সদ্য বিদায়ী সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি। ওবায়েদ ভাই ছিলেন শামসুল ইসলাম ভাইয়ের খুবই স্নেহভাজন। বিদায়ের ঠিক কিছুদিন আগে সামসুল ইসলাম ভাই মারাত্নকভাবে গাড়ী এক্সিডেন্ট করেন। যতদুর মনে পড়ে শামসু ভাই মারাত্নভাবে আহত হন। বেশ কয়েকদিন শামসু ভাইয়ের হাঁটতেও কষ্ট হতো। কলাবাগান মেসে আসার পর প্রথম কয়েকদিন আমার দায়িত্ব ছিল শামসুল ইসলাম ভাইয়ের দেখাশুনা করা।
কলাবাগান মেসে থাকার সুবাদে ওবায়েদ ভাইকে খুব কাছে থেকে দেখার সেীভাগ্য আমার হয়েছিল। সকাল বেলা ফজরের পর অনেক সময় আমরা দেীড়াতে যেতাম। সে সময় গ্রীণ রোড বা পান্থপথ এত ব্যস্ত ছিল না। যতদুর মনে পড়ে পান্থপথ সেময় আংশিক ছিল, রাস্তা তৈরির কাজ চলছিল। আমরা দেীড়ে গিয়ে সেখানে খোলা মাঠের মত স্থানে হালকা ব্যায়াম করতাম। কখনো কখনো দেীড়ে মানিক মিয়া এভিনিউ পর্য্যন্ত যেতাম। ওবায়েদ ভাই ব্যস্ত থাকার কারণে নিয়মিত যেতে পারতেন না। খুলনার শেখ বেলাল ভাই (মরহুম), কুমিল্লা বরুড়ার দেলোয়ার ভাই আর আমি প্রায় নিয়মিত যেতাম।
ওবায়েদ ভাই, বাংলাদেশে প্রায় প্রতিটি অঞ্চলের আঞ্চলিক ভাষার বেশ কিছু অংশ তিনি জানতেন, বা কথা বলতে পারতেন। তাই আপনার সাথে কথার শুরুতেই বা কোন কথার প্রতি উত্তরে আপনি যে অঞ্চলের সে অঞ্চলের ভাষায় কথা বলে তিনি আপনাকে কিনে নিতে পারতেন। আমার সাথে প্রথম পরিচয় এবং দেখাদেখির পর প্রথম প্রথম আমি মনে করেছিলাম তিনি নোয়াখালীর, তারপর একদিন দেখলাম তিনি বরিশালের ভাষায় পুরো ওস্তাদ, চিটাগাংয়ের ভাষার কাহিনী তো পরে আরো দেখলাম। তারপর যশোরের ভাইদের কাছে শুনলাম তিনি তাদের সাথে যশোরী ভাষায় কথা বলতেন।
ওবায়েদ ভাই ছিলেন অসম্ভব উদার দিলের মানুষ। ওবায়েদ ভাইয়ের উদার দিলের উদাহরণ দিতে গেলে একটু ভুমিকা টানতে হবে। ওবায়েদ ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার ব্যাক্তিত্ব। আমরা তাঁকে সাহিত্য সংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব হিসেবে চিনি বা শিবির বা জামাত নেতা হিসেবে চিনি। কিন্তু ওবায়েদ ভাই ছিলেন আরো অনেক বিস্তৃত। কবি আল মাহমুদকে আমরা চিনি। এই কবি আল মাহমুদ একসময় বামপন্থী ছিলেন। বামপন্থী পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। কবি আল মাহমুদ ইসলাম পন্থী হবার পেছনে ওবায়েদ ভাইয়ের উদার দিল ভুমিকা রেখেছে বলে আমি মনে করি। আমি ওবায়েদ ভাইয়ের মুখে কবি আল মাহমুদের প্রতি যে ভালবাসা, সম্মান দেখেছি তা আমাকে মোহিত করেছে। ওবায়েদ ভাইয়ের মুখে কত মহব্বতের সাথে ”মাহমুদ ভাই, মাহমুদ ভাই” উচ্চারিত হতো তা শুনলেই আপনার হৃদয় ভালবাসায় ভরে উঠবে। আমি আজো ওবায়েদ ভাইয়ে হাসিমাখা কন্ঠে শুনছি ”মাহমুদ ভাই, মাহমুদ ভাই”। ওবায়েদ ভাই কবি আলমাহমুদের সাথে অনেক মজাও করতেন। শুধু কবি আল মাহমুদ নয়, প্রফেসর সৈয়দ আলী আহসান ছিলেন বাংলাদেশের আরেক ক্ষণজন্মা পুরূষ। স্বাধীনতা পরবর্তি জাহাঙীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর। তার সাথেও ওবায়েদ ভাইয়ের সর্ম্পক ছিল অনেক সম্মানের অনেক গভীরে। আমি যখন কলাবাগানে, ওবায়েদ ভাই একদিন আমাকে পাঠালেন প্রফেসর সৈয়দ আলী আহসানের কাছে। আমি প্রফেসর আলী আহসান সাহেবের কাছে গিয়ে যখন বললাম, ’স্যার আমাকে আবুজাফর ওবায়েদ উল্লাহ ভাই পাঠিয়েছেন।’ তখন বললেন, ”ওহ! ওবায়েদ তোমাকে পাঠিয়েছে?”। শুধু কবি সাহিত্যিক নয়, মুক্তিযুদ্ধের ৯ নং সেক্টর কমান্ডার মেজর জলিলের ইন্তেকালের পর ওবায়েদ ভাই আমাকে মেজর জলিলের বাসায় পাঠিয়েছিলেন মেজর জলিলের স্ত্রী সায়মা জলিলের জন্য কিছু দাওয়াতী বইপত্র দিয়ে।
কলাবাগান মেসে থাকার সময় দেখেছি বাংলাদেশের এবং ঢাকার এলিট শ্রেণীর অনেক প্রতিভাবাণ তরুণ যুবক ছিল ওবায়েদ ভাইয়ের অসম্ভাব ভক্ত। যাদের অনেকের পরিবারে হয়ত ইসলামের সাথে কোন পরিচয় বা সম্পর্ক নাই বা ছিল না। কিন্তু তারা ছিল ওবায়েদ ভাইয়ের ভক্ত। শিল্পী, আঁকিয়ে, গায়ক এমন অনেকেই ছিল ওবায়েদ ভাইয়ের ভক্ত। শিল্পী, ফটোগ্রাফার ফরিদী নোমান, মমিনুদ্দিন খালেদ, কবি আলমাহমুদ, সৈয়দ আলী আহসান, মাসুম খলীলি এমন অনেককে আমি চিনেছি ওবায়েদ ভাইয়ের মাধ্যমে।
একদিনে এরকটি ঘটনা আমার কাছে অসাধারণ লাগে। একজন আধুনিক ঘেষা পরিবারের তরুন কলাবাগান মেসে আসে ওবায়েদ ভাইয়ের সাথে দেখা করতে। ওবায়েদ ভাই যখন তরুনটির সাথে কথা বলেন আমরাও সামনে ছিলাম। ছেলেটি বিদায় নেয়ার সময় ওবায়েদ ভাই ছেলেটির হাতে একটি চিঠি ধরিয়ে দেন, কিছুটা খোলা চিঠি। চিঠিটা ছিলো মগবাজার ওয়ারলেস গেটে অবস্থিত প্রীতি প্রকাশনের মালিক মরহুম আসাদ বিন হাফিজ ভাইয়ের কাছে। ওবায়েদ ভাই আসাদ বিন হাফিজ ভাইকে লিখলেন, ”পত্র বাহক আমার ছোটভাই। সে যে যে বই, যত বই নিতে চায় দিয়ে দিবেন, আমি মূল্য পরিশোধ করবো।” আমি জানি না, ছেলেটি কি কি বই নিয়েছে কত বই নিয়েছে। কিন্তু ওবায়েদ ভাই সে চিঠি অনেকটা ব্ল্যাংক চেক দিয়েছিলেন ছেলেটিকে।
আমার কলাবাগান থাকা অবস্থায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু কিছু কার্যক্রম কুষ্টিয়া শহরে শুরু হয়েছে। ক্যাম্পাস বলতে কিছু হয়নি বা নাই। শেখপাড়া বাজারে কিছু দোকান পাট রয়েছে। শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি আ.জ.ম ওবায়েদ ভাই সাংগঠনিক সফরে কুষ্টিয়া যাবেন। যেদিন সন্ধ্যায় ওবায়েদ ভাই কুষ্টিয়া যাবেন সেদিন দুপুরে আমাকে ডেকে বললেন, ’আজ আমি কুষ্টিয়া যাচ্ছি, আপনি আমার সাথে যাবেন।’ ওবায়েদ ভাই, আমাকে আর কিছু বলেন নি, শিবিরের গাড়ীতে (জীপে) করে সন্ধায় আমরা কয়েকজন রওয়ানা করলাম। কুষ্টিয়া যাওয়া পর, পরদিন সকালে সাংগঠনিক মিটিং শুরু হলো। মিটিং এ ওবায়েদ ভাই এক পর্যায়ে ঘোষনা করলেন, ”মাহফুজ ভাই (আমার নাম ধরে) আজ থেকে কুষ্টিয়া থাকবেন।” ওবায়েদ ভাইয়ের এই ঘোষনা শুনে আমি তো হতবাক। আমার সাথে কোন প্রকার আলাপ আলোচনা ওবায়েদ ভাই আগে করেন নি। স্বভাবতই আমার উপর তাঁর ততটুকু আস্থা ছিল। আমি হতবাক হলেও মিটিং এ কিছুই বললাম না। মিটিং শেষে ওবায়েদ ভাইকে একা পেয়ে বললাম, ”ওবায়েদ ভাই, আপনি এটা কি করলেন?”। আমার প্রশ্নের উত্তরে ওবায়েদ ভাই তাঁর স্বভাবসুলভ হেসে অত্যন্ত সাবলীলভাবে কিছুটা নোয়াখাইল্যা ভাষা মিশিয়ে বললেন, ”আমি এভাবেই কাম করি।” আমি বললাম, আপনি তো আগে আমাকে কিছুই বললেন না। তিনি বললেন, এটাই সিদ্ধান্ত।
কুষ্টিয়া ঝিনেদার সীমান্ত মদনডাঙা বাজারের পাশে এক বাড়ীতে আমাকে লজিং দেয়া হলো। সে সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কিছুই ছিল না। আক্ষরিক অর্থেই বলা যায়, কিছুই ছিল না। কুষ্টিয়া শহরের নিরালা মেসে নাজমুল হক সাঈদী ভাই, শহরের অন্য কোন মেসে আবদুল হাই ভাই সহ দুচার জন দায়িত্বশীল ভাই থাকতেন। আবদুদ দাইয়ান ইউনুস ভাই যিনি আমার তিন বছরের জুনিয়র ছিলেন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু দুরে জামায়াতের এক সমর্থকের বাড়ীতে লজিং থাকতেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে শেখ পাড়া বাজারে আরেকজন ভাই লজিং থাকতেন তার নাম ছিল সম্ভবত নাঈম। আমাকে লজিং দেয়া হল শেখ পাড়া বাজার থেকে ১/২ কিলোমিটার দক্ষিণে মদনডাঙা বাজারের পাশে এক বাড়ীতে। মদনডাঙা লজিং থাকার সময় আমি এবং ইউনুস ভাই (আবদুদ দাইয়ান ইউনুস) মিলে ক্যাম্পাসের খুব কাছে এক স্কুলে স্থানীয় ছাত্র ছাত্রীদের জন্য সংস্কৃতিক প্রতিযোগীতার আয়োজন করেছিলাম। এ জন্য সে সময়কার ইসলামিক ফাউন্ডেশন কুষ্টিয়া বেশ কিছ বই প্রদান করেন।
কুষ্টিয়া ঝিনেদার সে সময়কার জীবন যাত্রায় আমি অভ্যস্ত ছিলাম না। আমার খুব কষ্ট হচ্ছিল। তাই ওবায়েদ ভাইকে খুব আবেগঘন একটা চিঠি লিখলাম। বলা বাহুল্য সে সময় মোবাইল ফোন বলতে কিছু ছিল না। শহরগুলোতে স্বল্প সংখ্যক ল্যান্ড ফোন ছিল। সে সময় ডাক যোগে চিঠি পত্রের মাধ্যমেই বেশীর ভাগ যোগাযোগ হতো। ওবায়েদ ভাইকে লেখা আমার চিঠির পর, ওবায়েদ ভাই আমাকে কুষ্টিয়া শহরে এসে নিরালা মেসে এসে থাকতে বললেন। এবং দৈনিক সংগ্রামে মাসে ৫০০ টাকা ভাতা হিসাবে দৈনিক সংগ্রামের কুষ্টিয়া এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা হিসাবে আমাকে নিয়োগের ব্যাবস্থা করেন। মাসে ৫০০ টাকা সেসময় কুষ্টিয়া শহরে চলার জন্য খারাপ ছিল না। আমার মেস ভাড়া ছিল সম্ভবত ২০০ বা ৩০০ টাকা। ১৯৮৯ এর শেষ বা ১৯৯০ সালের প্রথম দিকে আমাদের প্রথম ব্যাচের মাস্টার্স পরীক্ষা শেষ হয়ে যাবার পর আমি আবার ঢাকা চলে আসি এবং আবার কলাবাগান মেসে উঠি।
আগেও বলেছি, অনেকে বলেছেন ওবায়েদ ভাই ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার ব্যাক্তিত্ব। শুধু বহুমুখী প্রতিভাই নন তিনি ছিলেন বহুমূখী সংগঠক। শিশু সাহিত্যিক, শিশু সংগঠক অনেক কিছুই। ওবায়েদ ভাইয়ের আরেকটি বিষয় অবদান অনেকেই জানেন না। সেটা হলো ইসলামী শিক্ষা এবং মাদ্রাসা শিক্ষার প্রতি ওবায়েদ ভাইয়ের ছিল অসাধারণ দরদ। মাদ্রাসা পড়ুয়া যেসব ভাই ছিলেন তাদেরকেও ওবায়েদ ভাই খুব ভালবাসতেন এবং কাছে টানতেন। কবি আবুতাহের বেলাল সহ অনেক মাদ্রাসা শিক্ষিত সংস্কৃতিমনা তরুনদেরকে ওবায়েদ ভাই কাছে টেনেছিলেন। ওবায়েদ ভাই মাদ্রাসা এবং ইসলামী শিক্ষার উন্নয়ের চিন্তা করতেন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পেছনে যেমন কাজ করেছেন। তেমনিভাবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংরক্ষের জন্য অবদান রেখেছেন। এবং নিজে ছাত্রত্বও গ্রহন করেছিলেন।
ব্যাক্তিগত আমি যেহেতু আমি মাদ্রাসা ব্যকগ্রাউন্ডের ছিলাম তাই তিনি মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যাবস্থা উন্নয়নে জন্য কি করা যায় সে ব্যাপারে আমার সাথে আলাপ করতেন। আলেম ওলামাদের সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন করেন। আমার আব্বা মাওলানা তোফায়েল আহমদ ছিলেন বাংলাদেশ জমিয়তুল মোদাররেসীনের কেন্দ্রীয় জয়েন্ট সেক্রেটারী সেটা ওবায়েদ ভাই জানতেন এবং কিভাবে জমিয়তের সাথে সর্ম্পক বৃদ্ধি করা যায় সেটা নিয়ে ভাবতেন। আমার আব্বা ছিলেন দেওবন্দী আলেম এবং জমিয়তুল মোদাররেসীন বা মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় জয়েন্ট সেক্রেটারী। এবং শিবির বিরোধী।
মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়ন এবং আলেম সমাজের সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৯৯১-৯২ সালে আমাকে ওবায়েদ ভাই মাদ্রাসা ছাত্র আন্দোলন পরিষদের কেন্দ্রীয় আহবায়ক হিসেবে মনোনয়ন দেন। আমি যদিও ১৯৮৭ সালে ঢাকা আলীয়া থেকে হাদীস বিভাগে কামিল সমাপ্ত করেছি, এবং ১৯৮৯ সালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স শেষ করেছি তারপরও মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যাবস্থায় কাজ করার জন্য আমাকে আবার ঢাকা আলীয়া মাদ্রাসায় তাফসীর বা ফিকাহ বিভাগে ভর্তি হবার উদ্ভুদ্ধ করেন।
১৯৯০ সালে আমার মাস্টার্স শেষ এবং মাদ্রাসা ছাত্র আন্দোলন পরিষদের সেশনের মেয়াদের শেষের দিকে আমি মালয়েশীয়ার ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনির্ভাসিটিতে ভর্তির জন্য আবেদন করি। সে সময় ডাঃ সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ভাই ওয়ামী বা ওয়ার্ল্ড এসেম্বলী অফ মুসলিম ইউথ এর দক্ষিণ এসিয়া প্রধান এবং ইফসু বা ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ফেডারেশন অফ স্টুডেন্ট অর্গানাইজেন এর সেক্রেটারী জেনারেল ছিলেন। সে সুবাদে মালয়েশীয়ার ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনির্ভাসিটি চারিত্রিক সনদপত্র চাইতো এবং সৈয়দ আবদুল্লাহ তাহের ভাইয়ের সনদকে খুব গুরুত্ব দিত। ওবায়েদ ভাই চাননি আমি মালয়েশীয়া চলে যাই। তিনি চেয়েছিলেন আমি দেশে থেকে সাংগঠনিক কাজ করি। অপরদিকে আমার ক্যারিয়ার নিয়ে আমার আব্বার পক্ষ থেকে প্রচন্ড চাপ ছিল। আব্বা চেয়েছেন আমি যেন আর দেশে না থাকি।
আমি তাহের ভাইয়ের কাছে গেলাম একটা চারিত্রিক সনদ নিতে। তাহের ভাই বললেন, ”ওবায়েদ তো আমাকে নিষেধ করেছে, তোমাকে সনদ না দিতে। ওবায়েদ চায় তুমি দেশে থাক।” আমি ওবায়েদ ভাইয়ের কাছে গিয়ে অনুনয় বিনয় করলাম। এক পর্যায়ে বললাম, ওবায়েদ ভাই, আমার আব্বা চান আমি চলে যাই। আমাকে কিন্তু চলে যেতে হবে। বলা বাহুল্য, শিবির করা নিয়ে অনেক বছর যাবত আমার আব্বার সাথে আমার মনমালিন্য চলছিল যেটা ওবায়েদ ভাই. মুকুল ভাই সহ অনেকেই জানতেন। একবার ঈদ উপলক্ষ্যে কলাবাগান থেকে সবাই গ্রামে যাচ্ছে কিন্তু আমি যাচ্ছিনা দেখে মুকুল ভাই, ওবায়েদ ভাই আমাকে ডেকে হাতে কিছু টাকা দিয়ে বললেন, যান দেশে (গ্রামে) যান, আপনার আব্বার জন্য কিছু গিফট নিয়ে যাবেন। আর বাবা যত কিছুই বলুক, বাবা বাবাই।
মালয়েশীয়া যাবার কয়েকদিন আগে যখন সংগঠন থেকে বিদায় নিতে ওবায়েদ ভাইয়ের কাছে যাই, তিনি তখন কেন্দ্রীয় সভাপতি। সেদিন ওবায়েদ ভাই আমাকে কিছু উপদেশ দিয়েছিলেন যেগুলো আমার সারা জীবনের জন্য পাথেয় হয়ে আছে এবং থাকবে।
১৯৯২ সালের ডিসেম্বরে দেশ ছাড়ার পর অনেক বছর ওবায়েদ ভাইয়ের সাথে অনেকদিন কোন যোগাযোগ ছিল। যোগাযোগের একমাত্র পথ চিঠি লেখা। সে সময় ওবায়েদ ভাই কিছু ম্যগাজিন সম্পাদনার সাথে জড়িত ছিলেন আমি সে সব ম্যগাজিনে মালয়েশীয়া থেকে লেখা পাঠাতাম।
২০১২ সালে দেশে আসার পর ওবায়েদ ভাই এবং আবুবকর রফিক স্যারের সাথে দেখা করার জন্য চট্রগ্রাম যাই আই আই ইউ সিতে। আবু বকর রফীক স্যার তখন ভাইস চ্যন্সেলর বা ডেপুটি ভি সি। ওবায়েদ ভাই রেজিস্টার। অনেক বছর পর সেদিন ওবায়েদ ভাইয়ের সাথে দেখা। আমার লেখা ”আমেরিকায় ইসলাম” বইটি উৎসর্গ যে কয়েকজনের নামে করেছিলাম তাদের মধ্যে আবুবকর রফীক স্যার এবং ওবায়েদ ভাইয়ের নামও ছিল। ওবায়েদ ভাইকে সেদিন বইটির কপি দিলাম। ওবায়েদ ভাই অনেক কথা বললেন।
ওবায়েদ ভাইয়ের সাথে আমার সম্পর্কের আরেকটা দিক রয়েছে। আমার ছোটভাই আবুল খায়ের নাইমুদ্দিন লেখালেখি করে। কবি এবং লেখক সে সুবাদে ওবায়েদ ভাইয়ের সাথে তারও একটা সম্পর্ক গড়ে উঠে। এবং আবুল খায়েরের মাধ্যমে ওবায়েদ ভাইয়ের সাম্প্রতিক কার্যক্রমের খোঁজ খবর নিতাম, ওবায়েদ ভাইও আবুল খায়েরের মাধ্যমে আমার এবং আমাদের পারিবারিক খোজঁ খবর নিতেন। ওবায়েদ ভাইয়ের সাথে আমার যে এত ঘনিষ্ঠ আত্নিক সর্ম্পক ছিল ওবায়েদ ভাইয়ের মৃত্যু আগে আল্লাহ পাক সেটা প্রমান করে দিলেন।
৪০ বছরের বন্ধু, বড়ভাই, নেতা ওবায়েদ ভাইয়ের সাথে মৃত্যুর ঠিক ২-৩ সপ্তাহ আগে আল্লাহ পাক মিলিয়ে দেন। এ বছর ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল আমি দেশে আসি। আগেই ইচ্ছা ছিল ওবায়েদ ভাইয়ের সাথে দেখা হবে বা করবো। আমার কাছে ওবায়েদ ভাইয়ের ফোন নম্বর ছিল না। আমার আরেক স্নেহাষ্পদ ছোট ভাই তেীফিক আল মোবারক কে অনুরোধ করলাম ওবায়েদ ভাইয়ের ফোন নম্বরটা দিতে। তেীফিকের দেয়া নম্বর অনুযায়ী ওবায়েদ ভাইকে ফোন দিলাম এবং সাক্ষাতের ইচ্ছা করলাম, চট্রগ্রাম আসার অভিপ্রায় ব্যাক্ত করলাম। ওবায়েদ ভাই বললেন আমি ৯ তারিখ ঢাকা আসছি এবং ১০ এবং ১১ তারিখ ঢাকা থাকবো। ঢাকা দেখা করতে পারো।
১০ এপ্রিল বসুন্ধরা এলাকায় দেশজ সংস্কৃতিক সংগঠনের অফিসে দেখা করার জন্য বললেন। তাঁর আসতে একটু দেরী হবে বলে মোস্তফা মনোয়ার ভাইয়ের ফোন নম্বর দিলেন এবং আমাকে অপেক্ষা করতে বললেন। ২০১২ সালে আই আই ইউ সিতে দেখা হবার পর ১২ বছর পর আবার দেখা। এর কয়েকদিন পরই দেশীয় সাহিত্য সংস্কৃতির বিরাট একটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সে জন্য ওবায়েদ ভাই প্রচন্ড ব্যাস্ত ছিলেন। তারপরও আমাকে সময় দিলেন। কাজ করছিলেন আর আমার সাথে কথা বলছিলেন। আমি ঘুর্ণাক্ষরেও বুঝতে পারিনি ওবায়েদ ভাইয়ের সাথে সেই দেখাই আমার শেষ দেখা হবে। আমেরিকার ফিরে আসার পর সম্ভবত ১৭ বা ১৮ই এপ্রিল ভুলক্রমে হোয়াটস অ্যাপের মাধ্যমে ওবায়েদ ভাইয়ের কাছে ফোন করে ফেলি। ১-২ সেকেন্ড এর মধ্যেই আবার কেটে দেই। পরদিনই ওবায়েদ ভাই কল দিলেন, বললেন তোমার মিস কল দেখে কল দিচ্ছি। প্রসংগত বলে রাখি সাংগঠনিক জীবনে ওবায়েদ আমাকে আপনি বলে সম্বোধন করলেও পরবর্তী সাক্ষাতগুলোতে তুমি বলেই সম্বোধন করতেন। ওবায়েদ ভাইয়ের সাথে সেই ছিল আমার শেষ দেখা শেষ কথা। আল্লাহ পাক ওবায়েদ ভাইকে কবুল করুন, গুনাহ মাফ করে জান্নাতুল ফিরদাউস দান করুন।





Comments