স্বপ্নপুরী লন্ডনে কয়েকদিন
- AbuSayed Mahfuz
- Aug 16, 2025
- 6 min read
আমার বৃটেন সফরটা কিছুটা অতিরিক্ত বৈচিত্রময়। প্রেক্ষিত এবং প্রেক্ষাপট ব্যতিক্রম স্বপ্নপুরী লন্ডন যাওয়ার প্রথম ইচ্ছা জেগেছিল নব্বইর দশকের একেবারে গোড়ার দিকে। বিলেতে পড়তে যেতে চায়না এমন কে আছে বাংলাদেশে। কিছুটা অনিশ্চয়তার মধ্যে একটা সুযোগ প্রায় আসি আসি করছিল এমন এক অবস্থায় মালয়েশীয়াস্থ ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটিতে পুর্ণ অর্থনৈতিক নিরাপত্তাসহ সুযোগ এসে যায় তাই চলে যাই মালয়েশীয়াতে। সেখানে পড়াশোনাকালিন সময়ে কিছুটা ব্যাক্তিগত এবং কিছুটা পারিবারিক কারনে লন্ডনে যাবার প্রয়োজন বা ইচ্ছা যাগে তাই বিলেতের ভিসার দরখাস্ত করে প্রত্যাখ্যাত হই। কিছুটা রাগ, দুঃখ, অপমান, ক্ষোভ জমিয়ে রেখে আবারো পড়াশোনার জন্য ১৯৯৫ সালে আমেরিকা।
২০০০ সালে লন্ডনে একটা সেমিনারের দাওয়াত পাই। আমি তখনো আমেরিকার সিটিজেন হইনি। গ্রীনকার্ডধারী। তাই লন্ডনের সেই সেমিনারে যাবার প্রত্যয়ে মিশিগান থেকে শিকাগোস্থ বৃটিশ কাউন্সিলে ভিসার আবেদন জানাই। যেহেতু আগে একবার বৃটিশ ভিসার জন্য দরখাস্থ করে প্রত্যাখ্যাত হই এবং পুনরায় ভিসার আবেদন করতে গিয়ে সেটা উল্লেখ করতে হয়েছে তাই শিকাগোস্থ বৃটিশ কাউন্সিল থেকে প্রায় ছয় সাত বছরের পুরনো মালয়েশীয়াস্থ বৃটিশ হাই কমিশনে খোঁজ নেয় কি কারণে সে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল এমন অফিসিয়াল প্রসিডিওর করতে করতে যদিও পরিশেষে আমাকে ভিসা দেয়া হয় তখন ছিল আমার সেমিনারের সময় পার হয়ে যায়, তাই ২০০০ সালে বৃটিশ ভিসা পেয়েও স্বপ্নপুরী লন্ডনে যাবার কিসমত আমার হয়নি। যদিও বাংলাদেশী সবুজ পাসপোর্টে আমেরকার ভিসার পাশাপাশি একটি বৃটিশ ভিসা আমাকে পুলকিত করতো মাঝে মধ্যে।
ইউ এস সিটিজেন হই ২০০৭ সালের এপ্রিল মাসে। পাসপোর্ট নিলাম ২০০৮ সালের ২৮শে মার্চ । বাংলাদেশে যাব এজন্য। ইউ এস পাসপোর্ট এক দৃষ্টিতে বলা যেতে পারে নট এ বিগ ডিল, তেমন কি আর, অন্য বিচারে ইউ এস পাসপোর্ট সত্যি সত্যি গুরুত্বপূর্ন ব্যাপার। বিশেষত আমার মত যাদের দেশ বিদেশ ঘুরার বাতিক রয়েছে। ইউ এস পাসপোর্ট পাবার আগেই আমি ৫টি দেশ সফর করেছি। ঘুরেছি পথে প্রান্তরে নগরে বন্দরে।
দেশে যাবার আগে লন্ডন হয়ে যাবার অভিপ্রায় অনেক দিনের। লন্ডনস্থ আমার একান্ত বন্ধুবর, স্নেহভাজন, আবদুদাইয়ান ইউনুস ভাইর ও খুব ইচ্ছা আমি যেন বাংলাদেশ যাবার পথে লন্ডন হয়েই যাই। ইউনুস ভাই বয়সে আমার একটু ছোট, এবং জুনিয়র, তবুও প্রথম থেকেই সম্পর্ক আপনি থেকে শুরু হয়ে আপনিতেই থেকে যায়। যদিও মনের দিক থেকে ইউনুস ভাই আমার একান্ত আপন ছোট ভাইয়ের মতই ছিল। আপন ছোট ভাইয়ের মতই যাকে ভালবাসতাম। রক্ত সম্পর্কের আত্মীয় না হলেও আত্মার আত্মীয়।
২৮শে মার্চ শুক্রবার এপ্রিল ০২, ২০০৮ বুধবার। এটা ছিল একদিকে আমার জীবনের একটি স্মরনীয় ঘটনা। আমি গভীরভাবে আবেগাপ্লুত, অভিভুত। আমার এই গভীর অনুভুতির কারণ অনেকগুলো কারণে প্রথমতই আমি যাচ্ছি সেই স্বপ্নপুরী লন্ডন যে লন্ডনে যাওয়া একটা স্বপ্ন অনেকের জন্যই। আরো কারণ ছিল এই যে, আমেরিকার পাসপোর্ট নিয়ে এই প্রথম আমি বিদেশ যাচিছ। কথাটা যে যেভাবেই নিন না কেন আমার বিশ্বাস আমেরিকার পাসপোর্ট বহন করা অনেকের জন্যই একটা পুলকের বিষয়, আনন্দের বিষয় বা কারো কারো কাছে গর্বের বিষয়। উপরন্তু আমার আনন্দ লাগছিল এ জন্য যে, আমি লন্ডনে যাচ্ছি যে লন্ডনে জীবনে কোনদিন না গেলে আমার অনেকগুলো স্মৃতি জড়িত, কিছু আবেগ জড়িত। আমার কিছু একান্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু থাকেন এই লন্ডনে। আবদুদ দাইয়ান ইউনুস, ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান, ব্যারিস্টার ফারুক, ব্যারিস্টার হামিদ হোসাইন আজাদ, ডঃ আমিনুল ইসলাম মুকুল এমনি অনেক ব্যাক্তিত্বকে দেখতে যাচ্ছি লন্ডনে।
আমার আনন্দের আরেকটি প্রধান কারণ হলো আমার এই সফর শুধু লন্ডন নয়, লন্ডন থেকে আমি যাচ্ছি ইতালীতে ইতালি থেকে যাচ্ছি বাহরাইনে, তারপর বাংলাদেশ হয়ে আবার মালয়েশীয়া।
ডেট্রয়েট থেকে বেলা ৩টার দিকে শিকাগো তারপর শিকাগো সময় রাত ৯টার দিকে আমেরিকান এয়ারলাইন্সে লন্ডন। শিকাগোতে আমাকে প্রায় ৪-৫ ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয়েছিল। রাত সাড়ে আটটার দিকে যখনই আমাদের ডাক পড়লো সে সময়ই আমি কয়েকজন বন্ধু বান্ধবকে ফোন করলাম।
শিকাগো সময় রাত ৯:২৫মিনিটে আমরা আমেরিকান এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৪৭ এ উঠলাম। ওয়াও, এটা ছিল নরমাল ডোমেস্টিক ফ্লাইট থেকে অনেক বড়। ইন্টারন্যাশনাল ফ্লাইটে যদিও এই নতুন উঠছিনা তথাপি এই ফ্লাইটটি আমার কাছে অনেক বড় লাগার প্রধান কারণ সম্ভবত ২০০১ সালে বাংলাদেশে যাবার পর আমি আর আমেরিকার বাইরে যাইনি। তবে এর মধ্যে অভ্যন্তরিন ফ্লাইটে অনেকবার এক রাজ্য থেকে আরেক রাজ্যে ভ্রমণ করেছিলাম সে সব অভ্যন্তরীন ফ্লাইটগুলো ইন্টারন্যাশনাল ফ্লাইট থেকে স্বভাবতই বেশ ছোট। সে জন্য হয়তোবা ছোট ফ্লাইট দেখতে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম আর হঠাৎ করে বড় বিমান দেখে চক্ষু ছানাবড়া।
৭৪৭ এই ফ্লাইটটি প্রতি সারিতে ১১জন যাত্রি বসতে পারে। প্রতিটি সারি তিনটি লম্বা লাইনে ভাগ করা। বাম পাশে জানালার পাশে ৩টি সীট, তারপর যাতায়াতের জন্য সরু পথ, তারপর মাঝখানে ৫টি সীট আবার রাস্তা তারপর আবার ডান পাশের জানালার পাশে ৩টি সীট। এছাড়াও বিমানটি কয়েটি কক্ষে বিভক্ত, সামনে পাইলটের ককপিটের পরেই প্রথম শ্রেনীর বা র্ফাস্ট ক্লাস এবং বিজনেস ক্লাসের যাত্রীদের কক্ষ, তার পেছনে মাঝখানে দুপাশে বাথরুম মাঝখানে ছোট্র রান্নঘর তারপর সাধারণ যাত্রীদের কক্ষ তার পেছনে ছোট্র একটা দেয়াল তারপর আবার আরেকটি যাত্রী কক্ষ, সর্ব পেছনে আবার বাথরুম এবং আপেক্ষিকভাবে বড় রান্না ঘর।
এছাড়াও একজন বিমান বালার সাথে আলাপ প্রসঙ্গে জানতে পারলাম যে, যাত্রীদের বসার কক্ষের উপরে বিমান ক্রদের ঘুমানোর বা বিশ্রাম নেবার স্থান রয়েছে। আমাদের বসার কক্ষের সামনের দেয়ারে বিগ স্ক্রীন টিভি মনিটর, যেখানে দেখাচ্ছিল যাত্রাস্থল এবং গন্তব্যস্থলের ম্যাপ। কখন রওয়ানা দিলাম কখন গন্তব্যে গিয়ে পেীছাবো তখন সেখান স্থানীয় সময় কয়টা বাজবে। বর্তমান ঠিক কোথায় আছে বিমান, এখানে এখন সময় কয়টা বাজে। এখানে নিকটতম শহর কোথায় কতমাইল দুরে।
দেয়ালে টাঙানো বিগ স্ক্রীন টিভি ছাড়াও যাত্রীদের সবার সিটের সাথে লাগানো আছে ছোট ছোট মনিটর, যেটা প্রত্যেক যাত্রী তার নিজের সুবিধামত পরিবর্তন করে মনের মত অনুষ্ঠান দেখতে পারে। নাটক, মুভি, ড্রামা ইত্যাদি।
সারা রাত আমার ঘুম হলো না। শিকাগো থেকে লন্ডনের যাত্রা ৫ ঘন্টার, সময়ের পার্থ্যক্য ৬ ঘন্টা। শিকাগো সময় রাত প্রায় দশটায় রওয়ানা করলেও লন্ডন গিয়ে পেীছালাম লন্ডন সময় পরদিন সকাল ৯টার দিকে। সব কর্ম সমাধা করে এয়ারপোর্ট থেকে বের হতে প্রায় দুঘন্টা লেগে গেল।
আমেরিকার মত লন্ডনেও সবাই খুব ব্যাস্ত। ইউনুস ভাই ছিলেন লন্ডনের বাইরে, তাই নজরুল নামের এক বন্ধু আসার কথা ছিল এয়ারপোর্টে কিন্তু কিছু একটা ইনফরম্যাশ গ্যাপ ছিল, ঐদিনই ছিল তাঁর একটা পরীক্ষা। তাই কেউ আসতে পারলেন না। তবে না আসাটাই ভাল হয়েছে, লন্ডনের পাতালপুরীর ট্রেন ব্যাবস্থা সম্পর্কে একা একাই জানার এবং বুঝার সুযোগ হয়েছিল। সেই ছিল আরেক মজা লন্ডনের পাতাপুরীর ট্রেন। তারা বলে টিউব। পাতালপুরীর ট্রেন আমার জন্য নতুন ছিলনা। সিংগাপুরের এম.আর.টি বা একই পাতালপুরীর ট্রেনে চড়েছিলাম ১৯৯৩ সালে। সিংগাপুর বলে এম.আর.টি বা মাস র্যাপিড ট্রানজিট। এছাড়া নিউ ইয়র্কে সাবওয়ে বা পাতালপুরীর ট্রেন তো ছিল পান্থা ভাতের মত। তারপরও লন্ডনের পাতালপুরীর ট্রেনটা মজা ছিল একটু বেশী। আমার কাছে অনেকবেশী সুসংগঠিত মনে হয়েছিল। যেমন নিউ ইয়র্কে সাবওয়ে খুবই নোংরা, কোন কোন স্টেশন তো জঘন্য, তাছাড়া নিরাপত্তার অভাব। কিন্তু লন্ডনের টিউব অপেক্ষকৃত অনেক বেশী ভদ্রজনোচিত মনে হলো। সেখানে সবচে’ উল্লেখযোগ্য জিনিস হলো পুরো পাতালপুরীতে একটা শৃংখলা বিরাজমান।
আমি যাব ইস্ট লন্ডনে যেখানে বাংলাদেশীদের মূল আড্ডাখানা। ইস্ট লন্ডন হোয়াইট চ্যাপল স্টেশনে নামতে হবে। হিথ্রো এয়ারপোর্ট থেকে আমাকে একবার গাড়ি বদল করতে হয়েছিল। বেলা আনুমানিক ২টায় আমি হোয়াই চ্যাপল স্টেশনে নামলাম। কথা ছিল হোয়াই চ্যাপল স্টেশনে নেমে ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামানকে ফোন করলে তিনি এসে নিয়ে যাবেন। হোয়াই চ্যাপল স্টেশনে নেমে আমার তো চক্ষু চড়কগাছ। একি, এ যেন এক মিনি বাংলাদেশ। পাতালপুরী থেকে উঠে যখন মুল সড়কে এলাম দেখলাম। রেল স্টেশনের সামনে রাস্তার দুপাশে দোকান, অধিকাংশ দোকানী বাংলাদেশী বা ইন্ডিয়ান। পথচারীদের শতকরা ৭০ ভাগ বাংলাদেশী। দেখলাম বাংলাদেশী তরুনরা বাংলা গানে কলি আউড়িয়ে হেটে যাচ্ছে। বোরকা পরা নারী, পান খেয়ে ঠোঁট জিহবা লাল করে আছে অনেকেই। এখানে ওখানে আড্ডাও আছে।
প্রায় পনের বিশ মিনিট আমি শুধু দাড়িয়ে তামাশা দেখলাম, এ যেন এক দারুন মজার কান্ড। তারপর ব্যারিস্টার আসাদকে ফোন করলাম। ৫ মিনিটের মধ্যেই আসাদ চলে এলে হেটে হেটে আসাদের ল ফার্মে চলে গেলাম। দুপুরে খেলাম বাঙালী রেস্টুরেন্টে। বাঙালী ইলিশের স্পেশাল অর্ডার দিলেন আসাদ। খাওয়া দাওয়া শেষে আসাদের অফিস গেলে সেখান থেকে ব্যারিস্টার ফারুক এসে তাঁর বাসায় নিয়ে গেলেন। ঘন্টা খানের আরাম করলাম ব্যারিস্টার ফারুকের বাসায়।
বৃটিশ লাইব্রেরী ভ্রমন
বিকেল ৫টার দিকে ব্যারিস্টার ফারুক নিয়ে গেলেন বৃটিশ লাইব্রেরীতে। সেখানে ইউনুস ভাই অপেক্ষা করছিলেন আমার জন্য। মনের দিক থেকে অতি নিকটে হলে ইউনুসের সাথে আমার দেখা ১২ বছর পর। আমার বার বার মন চাইছিল সে হেংলা পাতলা, ছিপছিপে সেদিনের ইউনুসকে আজ দেখতে কেমন লাগবে। আমি জানি সেদিনের ইউনুস আর আজকের ইউনুস এক নয়। আমি যে ইউনুসকে রেখে এসেছিলাম তার পর সে ইউনুস নামকরা ছাত্রনেতা হয়েছিল, গোল্ড মেডেল প্রাপ্ত র্ফাস্ট ক্লাস র্ফাস্ট ছাত্র হয়েছিল, স্বনামধন্য লেখক। আমি তো সেই ইউনুসকে এখন আর দেখবো না।
আনুমানিক আধা ঘন্টার মধ্যে আমরা বৃটিশ লাইব্রেরীতে গিয়ে পেীছালাম। ইউনুস ভাই লাইব্রেরীর ভেতরেই ছিলেন, লাইব্রেরীর গেট দিয়ে লাইব্রেরীর ভেতর ঢুকতেই একটু অদুরে ইউনুস ভাইকে দেখলাম। চিনতে কষ্ট হলো, একটু বদলেছেন বেশী না। তবে প্রকৃতি বদলায়নি, আছে আগের সেই হাসিটি। সেই প্রান চঞ্চলতা, প্রাণবন্ত কর্মতৎপরতা। সদা তৎপর, সদা কর্মপরায়ন, সদা দায়িত্ববান আমার এই ভাইটি। জড়িয়ে ধরলাম একে অপরকে, আমার চোখে পানি এসে গেল। কতদি---ন পর দেখা।
বৃটিশ লাইব্রেরী :
বৃটিশ লাইব্রেরী হলো বিশ্বের বৃহত্তম রিসার্চ লাইব্রেরীর অন্যতম। এই লাইব্রেরীতে বিশ্বের পরিচিত সকল ভাষায় ১৫০ মিলিয়ন এর বেশী আইটেম রয়েছে। আইটেমের মধ্যে রয়েছে বই, জার্নাল, সংবাদপত্র, ম্যাগাজিন, মিউজিক রেকডিং, ডাটাবেইস, ম্যাপ, অংকন ইত্যাদি। আমেরিকার লাইব্রেরী অফ কংগ্রেসের পরই কিন্তু বৃটিশ লাইব্রেরীর স্থান।
বৃটিশ লাইব্রেরীতে শুধু বইই আছে ২৫ মিলিয়ন যে বইগুলোর মধ্যে ৩০০ খ্রীষ্ট পুর্বের প্রকাশিত বইও রয়েছে।
বৃটিশ লাইব্রেরী প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৭৩ সালে, ১৯৭২ বৃটিশ লাইব্রেরী এক্ট এর মাধ্যমে। এর আগে বৃটেনের জাতীয় লাইব্রেরী ছিল বৃটিশ মিউজিয়ামের অধীনে।
লাইব্রেরী ভবনের ঠিক মাঝখানে চার তলার গ্লাস টাউয়ার। আমাদের হাতে সময় বেশী ছিল না, মাত্র ৩০ মিনিট পরই দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ হয়ে যাবে। তাড়াহুড়ো করে মাত্র ৩০ মিনিটেই এক চক্কর ঘুরে নিলাম ঐতিহাসিক এই লাইব্রেরীর ভেতর। কিছু ছবি নিলাম এখানে সেখানে তারপর রওয়ানা করলাম পাশে বৃটিশ মিউজিয়ামে।
বৃটিশ যাদুঘর বা (মিউজিয়াম) ঃ
বৃটিশ জাতীয় যাদুঘর বা বৃটিশ মিউজিয়াম হলো মানবতার ইতিহাস এবং সংস্কৃতির এক প্রাচীনতম বড় যাদুঘর। ১৭৫৩ সালে এই যাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে এটা ছিল বিশিষ্ট চিকিৎসাবিদ এবং বিজ্ঞানী স্যার হ্যানস স্লোন এর কিছু সংগ্রহকে ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। এই যাদুঘরটি সর্বসাধারনের জন্য প্রথম খোলা হয়েছিল ১৭৫৯ সালের ১৫ই জানুয়ারী।
বৃটিশ মিউজিয়ামে ৭ লক্ষের ও বেশী সংগ্রহ রয়েছে। পৃথিবীর মধ্যে সবচে’ বড় এবং সবচে’ বেশী গ্রহনযোগ্য এবং ৭টি মহাদেশের সকল মহাদেশ থেকেই এখানে সংগ্রহ রয়েছে। মানব সংস্কৃতির ইতিহাস একেবারে শুরু থেকে অদ্যাবধি।
সূর্যাস্তের সামান্য আগে আমরা মিউজিয়ামে প্রবেশ করলাম। মিউজিয়াম সে যেন এক মহা রাজ্য এলাহী কান্ড। প্রাচ্য, প্রতিচ্য এবং পাশ্চাত্যের ইতিহাস। সভ্যতার আদি ইতিহাস, মেসোপোটেমিয়া, পারশ্য সভ্যতা, আরব্য উপদ্বীপ, আনাতোলিয়া বা অটোমান সাম্রাজ্য বা ওসমানিয়া খেলাফত, ককেসীয় সভ্যতা সংস্কৃতি, মধ্য এশিয়া, আরব জগত, সিরিয়া, ফিলিস্তিন। নবীদের ইতিহাস, ৭ম শতাব্দির ইসলামের স্মৃতি চিহ্ন সকল কিছুর নিদর্শন রয়েছে বৃটিশ মিউজিয়ামে।





Comments